নাজিম উদ্দিন (চট্টগ্রাম):
হাটহাজারী পৌরসদর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বিপরীতে নাজিরপাড়া শাহজালাল মসজিদের পেছনে একটি আবাসিক এলাকায় জলাশয় ভরাট করে অবৈধভাবে জুতার কারখানা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো ধরনের অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কারখানাটি চালু করা হয়েছে, ফলে এলাকায় দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক মাস ধরে কারখানাটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চলছে। জুতা তৈরির সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের তীব্র গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এটি একটি আবাসিক এলাকা। এখানে হঠাৎ করে জুতার কারখানা চালু হওয়ায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কারখানা থেকে বের হওয়া কেমিক্যালের গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
অভিযোগ রয়েছে, কারখানাটি স্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
বেসরফ জুতার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর খোরশেদ মোহাম্মদ ইরফান এর কাছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, শিল্প ও কলকারখানার সনদ, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র এবং হাটহাজারী পৌরসভার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ফ্যাক্টরি লাইসেন্সের জন্য "ফ্যাক্টরি ট্রেড লাইসেন্স" টি প্রথমেই প্রয়োজন। অন্যান্য সকল ডকুমেন্টস ওকে করার জন্য ফ্যাক্টরি লাইসেন্সটা হাতে পেতে হবে। ফ্যাক্টরি লাইসেন্স পেয়ে গেলে অন্যান্য ডকুমেন্টগুলো দ্রুত হয়ে যাবে বলে জানান।
বেসরফ জুতার কারখানার মালিক জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুমোদন চেয়েছে? কিন্তু পৌরসভার কর্তৃপক্ষ কি কারখানার লাইসেন্স দিতে পারেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আক্রাম হোসেন জানান, সে যাই কিছু চাইবে চাক, তবে আমি তাকে ট্রেড লাইসেন্স দেবো। দরকার হলে সে লাইসেন্স টা দিয়ে রাস্তায় চানাচুর বিক্রি করুক।
হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, এখনো পর্যন্ত কোন জুতার কারখানার কথা শুনতে পায়নি।
অনুমোদন বিহীন জুতার কারখানায় কিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যায় তা জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন জুয়েল জানান, আমি এখনই তদন্ত করে দেখছি। তবে বৈধ কাগজ পত্র ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যায় না।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে উপপরিচালক মোজাহিদুর রহমান এর মুঠোফোন একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।